প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সম্প্রসারণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে - মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিশুদ্ধ জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশীয় ভেড়া সম্প্রসারণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ লক্ষ্যে বর্তমানে পাইলট ভিত্তিতে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে দেশের সকল জেলায় সম্প্রসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আজ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এর সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বিশুদ্ধ জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশীয় ভেড়া সম্প্রসারণে পাইলট প্রকল্প-এর অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের একটি মূল্যবান দেশীয় জাত, যা দ্রুত বংশবিস্তার, উন্নত মাংসের গুণগত মান এবং ব্যাপক বাজার চাহিদার কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি লাভজনক জীবিকার উৎস হতে পারে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এ খাতে সম্পৃক্ত ও দক্ষ করে তুলতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খামারিদের কাছে গিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে আধুনিক প্রাণিপালন ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক খামারিদের সঠিক পরিচর্যা, রোগব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন কৌশল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী খামারিদের প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য করেন অধিদপ্তরের পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থাপনা করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনিছুর রহমান। এসময় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গবেষক ও খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রঃ পিআইডি